অ্যামাজনের মালিক বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েও বাজার করেন নিজে

সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন অ্যামাজনের সিইও ও বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি জেফ বেজস। অ্যামাজনের স্ট্রিমিং সার্ভিস অ্যামাজন প্রাইমের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে হাজির হন জেফ বেজোস।

অ্যামাজনের মালিক বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েও বাজার করেন নিজে
অ্যামাজনের মালিক বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েও বাজার করেন নিজে

সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন অ্যামাজনের সিইও ও বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি জেফ বেজস। অ্যামাজনের স্ট্রিমিং সার্ভিস অ্যামাজন প্রাইমের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে হাজির হন জেফ বেজোস। সেখানে তার সাক্ষাৎকার নেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান ও পরিচালক জোয়া আখতার।

ছোট বেলায় তিনি কী হতে চেয়েছিলেন শাহরুখের এমন প্রশ্নের জবাবে জেফ বেজোস বলেন, ৬ বছর বয়সে তিনি আর্কিওলোজিস্ট হওয়ার কথা ভেবেছিলেন। পরে ফিজিক্সে পড়তে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ফিজিক্সের ক্লাস করার পর তিনি বুঝতে পারেন তার পক্ষে ফিজিসিস্ট হওয়া সম্ভব নয়। পরে তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশুনা করেন। কম্পিউটার সায়েন্সের প্রতি ভালোবাসা থেকেই অ্যামাজন প্রতিষ্ঠার চিন্তা তার মাথায় আসে।

স্বশরীরে তিনি কবে বাজারে গিয়েছিলেন সে প্রশ্নের জবাবে বেজস বলেন, তিনি খাবার রান্না করতে ভালোবাসেন। তাই বাজারে গিয়ে কাঁচাবাজারও নিজেই করেন। অ্যামাজন থেকে কিছু কেনেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বেজস বলেন, প্রতিনিয়তই তিনি কেনেন। তবে কোনো সমস্যা পেলে অ্যামাজনের বক্সসহ অফিসে আসেন। এতে তার কর্মীরা সহজেই বুঝতে পারেন সার্ভিস নিয়ে তিনি খুশি নন। পণ্যে বা ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা থাকলে তার প্রধান কারণ তিনি খুঁজে বের করেন।

এছাড়াও, তার কাছে অ্যামাজনের গ্রাহকরা ইমেইল পাঠান। এসব ইমেইল পড়েও তিনি বুঝতে পারেন কোথায় কোন গড়বড় হচ্ছে। তিনি বলেন, অ্যামাজনের সার্ভিস ভালো হলেও তা আরও ভালো করা সম্ভব। কারণ ভালোর কোনো শেষ নেই। অ্যামাজন প্রাইম নিয়ে তিনি বলেন, সিরিজে কমেডি, থ্রিলার না রোমান্স  দেখানো হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দর্শকরা সিরিজ দেখে কোনো বার্তা পেলো কিনা সেটাই মূল বিষয়।

এ প্রসঙ্গে, জেফ বেজোস ইঞ্জিনিয়ারিং আর কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার পর নিউ ইয়র্কে গিয়ে চাকরি করেন কয়েকটি ফিনান্স কোম্পানিতে। তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জির সাথে এসময়ই পরিচয় হয় তার। বেজোসের বয়স যখন ৩০, তখন একটা পরিসংখ্যান চোখে পড়ে তার - যাতে বলা হয়েছিল ইন্টারনেটের দ্রুত বৃদ্ধির কথা। 
তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, চাকরি নয়, নিজেই কিছু একটা করবেন। বেজোস চলে গেলেন আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তের শহর সিয়াটলে। তার নিজের জমানো কিছু টাকা, আর পরিবারের কিছু সাহায্য - সব মিলিয়ে এক লাখ ডলারের কিছু বেশি অর্থ, এই ছিল তার বিনিয়োগ।