শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো ভিলেজকে ইয়াবা ও ইয়াবার কাঁচামাল পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্র। কায়িক পরীক্ষা কম হওয়ায় তৈরি পোশাকের চালানকে বেছে নেয়া হয়েছে পাচারের জন্য। গত ৯ সেপ্টেম্বরে পাচারের চেষ্টাকালে ১৫ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল এমফিটামিন জব্দের পর পোশাকের কার্টনে আবারো মিললো ৩৯ হাজার পিস ইয়াবা।

এমফিটামিন মাদকের পর এক মাসের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজে তৈরি পোশাকের চালানে ইয়াবা ধরা পড়ায় টনক নড়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। বাড়ানো হচ্ছে স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, দেশী-বিদেশী চক্র জড়িত ইয়াবা পাচারের সঙ্গে। এদিকে চোরাচালান রোধে রফতানি কার্গো ভিলেজে কাস্টম কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকার চায় ঢাকা কাস্টম হাউস। এ ব্যাপারে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। গেল বছরের নভেম্বরেও বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ধরা পড়ে মালয়েশিয়ায়। যদিও তা ধরতে পারেনি বিমানবন্দরের কোন সংস্থা। বিজিএমইএ নেতাদের দাবি, রফতানির নামে মাদক পাচারের চেষ্টা হলেও জড়িতরা কেউ পোশাক শিল্প মালিক নয় ।

বিজিএমইএ সাবেক সহ-সভাপতি মো. নাসির বলেন, ‘একটা সংঘবদ্ধ চক্র পোশাক রপ্তানির নামে মাদক পাচার করছে। এটার সাথে কোনো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর কেউ জড়িত না। তাদের খুঁজে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা যেনো করা হয়।’ এদিকে এমফিটামিন জব্দের ঘটনায় দেশীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সবাই ধরা পড়েছে দাবি করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা। তিনি বলেন, আরো জড়িত ভারতীয় মাদক পাচারকারীদের বিষয়ে সে দেশের সরকারকে অবহিত করা হবে।

এদিকে রফতানি কার্গো ভিলেজে কাস্টম সদস্যদের প্রবেশাধিকার দেয়ার দাবি প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান বলেন, এভিয়েশন সিকিউরিটির সদস্যরাই এখানে কাজ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। তবে চোরাচালান রোধে আরো ১২টি ডুয়েল ভিউ স্ক্যানার ও অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানালেন তিনি। সৌদি এয়ারলাইন্সের কার্গো ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াদে যাওয়ার আগে ডুয়েল ভিউ স্ক্যানারে পোশাকের কার্টনে ইয়াবার চালান টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।