দিনাজপুর জেলায় অন্যান্য বারের মত এবারেও টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল ফলনে বেশ খুশিও টমেটো চাষিরা। কিন্তু করোনাভাইরাসে লকডাউন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাভজনক এই টমেটো আবাদ করে দাম না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। আর লকডাউনসহ বিভিন্ন কারণে পরিবহনের ভাড়া বেশি ও বাইরের ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। প্রতিদিনই পাইকারী বাজারে টমেটোর দাম কমছে।

দিনাজপুরে টমেটোর বাম্পার ফলন

দিনাজপুর শহরের অদূরে সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নে অবস্থিত জেলার বৃহত্তর টমেটোর হাট গাবুড়া হাটে দু’দিন আগেও যে টমেটো বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৬০০ টাকা মণ দরে, সেই টমেটো সোমবার বিক্রি হয়েছে ২০০-৩০০ টাকা মণ দরে।

দিনাজপুরে টমেটোর বাম্পার ফলন

দিনাজপুর জেলার সদর, ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, বিরল, কাহারোল ও বোচাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন জাতের টমেটোর চাষ হয়। জানুয়ারির শেষে এই টমেটো আবাদের পর ক্ষেত থেকে তোলা হয় মার্চ মাসের শেষের দিকে। তাই বাজারে টমেটোর এখন ভরা মৌসুম। প্রতি মৌসুমে দিনাজপুর সদর উপজেলার কাউগাঁ, গাবুড়া ও পাঁচবাড়ী বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকার টমেটো বেচাকেনা হয়।

এসব টমেটো যায় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গাবুড়ার হাটে টমেটোর আমদানি প্রচুর হলেও সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। তাছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আগের মতো টমেটো যাচ্ছে না বলে জানান পাইকারী ব্যবসায়ীরা। তাই সোমবার টমেটোর বাজারে দামে ধস নামায় বিপাকে পাইকারী ব্যবসায়ী ও চাষিরা।দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম জানান, এ বছর আমি লাভের আশায় এক বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছিলাম। এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদে খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু টমেটোর দাম না পাওয়ায় আমার খরচ উঠবে না, বরং লোকসান গুনতে হবে। একই কথা জানালেন কয়েকজন টমেটো চাষি।

ঢাকা থেকে আগত টমেটো ব্যবসায়ী মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর গাবুড়া হাট থেকে প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১৫ টন টমেটো নিয়ে যাওয়া হয়। চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কম। তবে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। তিনি জানান, সরকারিভাবে টমেটো সংরক্ষণ এবং বিপণনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকলে সারা বছর এলাকার টমেটো সারাদেশে ক্রেতাদের সরবরাহ করা যেত। দিনাজপুর সদর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের গাবুড়াহাটের টমেটো বাজার ইজারাদার মমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এখান থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ মেট্রিক টন টমেটো ৫০-৬০টি ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

টমেটো নষ্টের এবং লোকসানের হাত থেকে কৃষককে বাচাঁতে এই এলাকায় টমেটো সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ করতে সরকারসহ বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও হবে। এছাড়া অন্যান্য ফসলের মতো টমেটোরও ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করার দাবী জানিয়েছেন এলাকার টমেটো চাষিরা।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুল ইকবাল জানান, এবারে জেলায় ১৯০০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে।

আমাদের ফেইসবুক Link : ট্রাস্টনিউজ২৪