দিনাজপুর পৌর ১১ নং ওয়ার্ডে ২ টাকার ওএমএসের ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রি জরিমানা | Trustnews24

দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড এলাকায় বিশেষ খাদ্যবান্ধন কর্মসূচীর (ওএমএস) আওতায় পরিবারভিত্তিক ২টাকার একটি ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সারোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সহযোগি মো. জিয়াউর রহমানকে এই জরিমানা করা হয়।

দিনাজপুর পৌর ১১ নং ওয়ার্ডে ২ টাকার ওএমএসের ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রি জরিমানা | Trustnews24
দিনাজপুর পৌর ১১ নং ওয়ার্ডে ২ টাকার ওএমএসের ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রি জরিমানা | Trustnews24


দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড এলাকায় বিশেষ খাদ্যবান্ধন কর্মসূচীর (ওএমএস) আওতায় পরিবারভিত্তিক ২টাকার একটি ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সারোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সহযোগি মো. জিয়াউর রহমানকে এই জরিমানা করা হয়।

ওই ওয়ার্ডের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দিনাজপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সারোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় পরিবারভিত্তিক (রেশন কার্ড) একটি ফর্ম পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। পৌরসভা থেকে প্রত্যেকটি কাউন্সিলরকে এই ফর্ম সরবরাহ করা হয়।

যদিও ফর্মটি কাউন্সিলরদের কাছ থেকে নেওয়ার কথা কিন্তু তিনি তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে মো. জিয়াউর রহমানকে দিয়ে ফর্মটি বিক্রি করাচ্ছেন। ফর্মটি ফটোকপি করলে যেকোন দোকানে ২ টাকার বেশি খরচ হবার কথা নয়। কিন্তু কাউন্সিলরের সেই সহযোগি জিয়াউর রহমান প্রতিটি ফর্মের জন্য ২০ টাকা করে নিচ্ছেন। এরকম কয়েক হাজার মানুষের কাছে ফর্ম বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভিক্ষা করে দিন চালান রেলবস্তী এলাকার সালমা বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি প্রথমে একটা ফর্ম ২০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলাম কিন্তু সেই ফর্মটিতে সামান্য ভুল হবার কারণে আমাকে আবার ২০ টাকা দিয়ে নতুন একটি ফর্ম কিনতে হয়েছে। এই অভাবী দিনে আমার মত ভিক্ষুকের ৪০ টাকা খরচ করাটা কঠিন বিষয়। কিন্তু উপায় না পেয়ে সরকারের স্বল্পমূল্যের চালের আশায় ফর্ম পূরণ করেছি।’

১১নং ওয়ার্ডের মিশন রোড এলাকার শুকুর আলী বলেন, ‘রেশন কার্ডের ফর্ম কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে ২০ টাকা দিয়ে কিনছি। আবার তার সাথে ছবি তোলা, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি সব মিলে ৭০ থেকে ৮০ টাকা খরচ। এই দুর্দিনে এত টাকা খরচ করে একটি কার্ডের আশায় দৌড়াচ্ছি। তারপরেও কার্ডটি হবে কিনা এর কোন গ্যারান্টি নেই।’এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলার সহাকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান ওই কাউন্সিলরের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। ঘটনার সত্যতা হাতেনাতে পাওয়ার পর সেখানে থাকা কাউন্সিলরের সহযোগি জিয়াউর রহমানকে ১০ হাজার টাকা ভোক্তা অধিকার আইনে জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘মাত্র ২ টাকার একটি ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পেলে আমরা সেই স্থানে যাই। সেখানে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পেলে সাথে সাথেই ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করি। যদি এরকম কর্মকান্ড কেউ পরিচালনা করে তাহলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।’