প্লাস্টিক পৃথিবীর কিভাবে ক্ষতি করছে?

ডেক্স নিউজ- সৃষ্টিকূলের সেরা জীব মানুষ। পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের মাঝে পরিবর্তন চলে আসে মুহূর্তের মধ্যে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সবাইকে। এই পরিবর্তনের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনই রয়েছে অপকারিতাও।

প্লাস্টিক পৃথিবীর কিভাবে ক্ষতি করছে?
প্লাস্টিক পৃথিবীর কিভাবে ক্ষতি করছে?

ডেক্স নিউজ- সৃষ্টিকূলের সেরা জীব মানুষ। পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের মাঝে পরিবর্তন চলে আসে মুহূর্তের মধ্যে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সবাইকে। এই পরিবর্তনের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনই রয়েছে অপকারিতাও।

মানব সভ্যতার বহুল মূল্যবান আবিষ্কার প্লাস্টিক। প্লাস্টিক আবিষ্কারের ফলে অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। কিন্তু এক সময়ের আবিষ্কৃত এই মূল্যবান অবদান এখন পরিবেশ ও প্রাণিকূলের জন্য হুমকির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৫০ সালে পুরো পৃথিবীতে প্লাস্টিকের উৎপাদন ছিল মাত্র ২ দশমিক ২ টন। ৬৫ বছর পর ২০১৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৪৪৮ মিলিয়ন টনে। পৃথিবীতে এখন প্রতি বছর মাথাপিছু ৬০ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ ও জাপানের মতো শিল্পোন্নত অঞ্চলে এর পরিমাণ মাথাপিছু ১০০ কেজিরও বেশি। এবং এর পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিশ্ব জুড়ে যত প্লাস্টিক উৎপাদিত হয় তার ৭৫ শতাংশই বর্জ্য। এই বর্জ্য প্লাস্টিকের ৮৭ শতাংশ পরিবেশে গিয়ে মেশে। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ নিউক্যাসল এ ব্যাপারে একটি গবেষণা করেছে। সে গবেষণাপত্র এ বছর প্রকাশ করেছে ওয়ার্লড ওয়াইল্ডলাইফ ফাউন্ডেশন। তাতে বলা হয়েছে প্রতি সপ্তাহে একজন মানুষ গড়ে ৫ গ্রাম করে প্লাস্টিক হজম করে থাকেন। এক তৃতীয়াংশ প্লাস্টিক প্রকৃতিতে, বিশেষ করে জলে গিয়ে মেশে। মানুষকে যে প্লাস্টিক হজম করতে হয়, তার সিংহভাগই আসে ওই জল থেকেই। ট্যাপের জলে প্লাস্টিক ফাইবারের হদিশ মেলার হিসেবে ভারতের স্থান তৃতীয়। ভারতের ৮২.৪ শতাংশ ট্যাপের জলে প্রতি ৫০০ মিলিলিটারে ৪টির বেশি প্লাস্টিক ফাইবার পাওয়া যায় বলে ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি টন (২৫ মিলিয়ন টন) প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে অন্তত দেড় লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য মহাদেশের নদ-নদী ও জলাশয়ে গিয়ে জমে।

এদিকে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে। ২০১৪ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বছরে গড়ে মাথাপ্রতি প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয় ৩ দশমিক ৫ কিলোগ্রাম। ইউরোপের গড় মাথাপ্রতি বছরে ১৩৬ কিলোগ্রাম এবং উত্তর আমেরিকায় ১৩৯ কিলোগ্রাম। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পরিমাণ কম হলেও নগরায়ণের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে সে পরিমাণ। কেবল প্লাস্টিক পণ্যের পরিমাণ নয়, বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহারবৈচিত্র্যও বাড়ছে।

প্লাস্টিকের গামলা, বালতি, চায়ের কাপ, স্ট্র, পানির বোতল, কোমল পানীয়ের পাত্র ইত্যাদি রান্নাঘরের কোণ থেকে শুরু করে ঘর-গৃহস্থালির সব জায়গাতেই ব্যবহার হয়। এমনকি জুস কিংবা চা সরবরাহের জন্য হোটেলগুলোতে প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার হয়ে থাকে।

পৃথিবীর অনেক দেশের সরকার এই ক্ষতিকর দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশেও প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। সাধারণ মানুষকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।