হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে মজা করে ত্রাণ চাওয়ায় দিতে হলো জরিমানা

The helpline is fine to call for fun and fun relief

হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে মজা করে ত্রাণ চাওয়ায় দিতে হলো জরিমানা
হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে মজা করে ত্রাণ চাওয়ায় দিতে হলো জরিমানা

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের ধোবারুহি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
জরুরি মুহূর্তে খামখেয়ালিপনা করে ত্রাণকাজে বিঘ্ন সৃষ্টির অপরাধে তাদেরকে  অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতত্রাণ। পাওয়ার মতো অভাবগ্রস্ত নন তারা। পেশায় একজন ঠিকাদার, আরেকজন ব্যবসায়ী। তারপরও মজার ছলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে সরকারি সহায়তা চান মো. হারুন অর রশিদ ও আবুল বাশার নামে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার দুই ব্যক্তি। ফোনকল পেয়ে রাতের আঁধারে প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মীরা ত্রাণ নিয়ে হাজির হন তাদের বাড়িতে। কিন্তু তারা জানান, “ত্রাণের প্রয়োজন নেই, মজা করতে খামখেয়ালিপনায় ফোন দেওয়া হয়েছিল। এই অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দু’জনকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ওই দুই ব্যক্তি জরুরি ত্রাণ সহায়তা হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে তারা বাইরে যেতে পারছেন না। কাজকর্ম না থাকায় ঘরে খাবারও নেই।

কিছুক্ষণ পরেই ৩৩৩ হটলাইন থেকে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামকে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে কুলসুমকে ওই দুই ব্যক্তির বাড়িতে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী রাত আটটার দিকে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ওই দুই ব্যক্তির বাড়িতে যান।

তখন হারুন ও বাশার প্রশাসনকে জানান, তাদের আসলে ত্রাণ কিংবা খাবারের প্রয়োজন নেই। মজা করেই ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেছিলেন।

জরুরি মুহূর্তে খামখেয়ালিপনা করে ত্রাণকাজে বিঘ্ন সৃষ্টির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর ৩৮ ধারায় হারুন অর রশিদকে ২৫ হাজার টাকা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং আবুল বাশারকে ৩ হাজার টাকা অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ডের সাজা দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু।

আদালতে দোষ স্বীকার করে অর্থদণ্ড পরিশোধের মাধ্যমে অপরাধীরা মুক্তি পান।